রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের সদস্যরা বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এরই মধ্যে বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
বুধবার ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেত্রকোনা-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে যে গতি দেখিয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল দৃষ্টান্ত।
তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রশংসা করে বলেন, সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। ওই দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেন। পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।
ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এবং তা সমর্থন করেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। আলোচনায় মোট ১৫ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামো ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ও তুলে ধরেন।
ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে জনগণের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এবং এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
কুমিল্লা-১০ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূইয়া জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ জেলার ১৩টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ের ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাও সরকারের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
অন্যদিকে শেরপুর-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে উন্নয়নের গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এম খালেদ হোসেন মাহবুব, জামালপুর-৫ আসনের শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মজহারুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনের এম শফিকুর রহমান কিরণ, হবিগঞ্জ-২ আসনের আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আইনুল হক, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির আবদুল্লাহ আল আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের জামায়াত সমর্থিত সদস্য এম জহিরুল ইসলাম এবং নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আবদুল লতিফ।
বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।