গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাস পার করেছে নতুন সরকার। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গত এক মাসে সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি, যা সাম্প্রতিক বছরের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কোনো গুলির ঘটনা বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে প্রায় প্রতি বছরই সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ ছিল। সেই তুলনায় এই এক মাসের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই ভিন্ন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগ শুরু করা হয়। বিশেষ করে বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর ইতিবাচক প্রতিফলন সীমান্ত পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠ পর্যায়েও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে থেকে টহল কার্যক্রম বাড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকছে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “গুলি না চালানোটা প্রতিবেশী দেশের একটি ভালো দিক। নিরীহ কেউ যেন হত্যার শিকার না হন—সেটিই আমরা বারবার বলে আসছি। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানা গেছে। সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগই ইতিবাচক ফল এনে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ও প্রাণহানি একটি বড় মানবিক ও কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এক মাসে কোনো হত্যাকাণ্ড না হওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, বরং আস্থার একটি নতুন পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত বহন করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারও সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করা হচ্ছে।