স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘গ্রামে-শহরে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। জনস্বাস্থ্যকে আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। উপজেলা-জেলা-বিভাগীয়সহ সব পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিতি, ডায়াগনস্টিক সেবার ব্যবস্থা করা, পরিচ্ছন্নতা এ বিষয়গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আশা করি খুব দ্রুতই সেবার মানে গুণগত পরিবর্তন দেখতে পারবে দেশের মানুষ।’
গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষার মানোন্নয়নেও আমাদের নজর রয়েছে। দেশের সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অন্যগুলোর এখনো সংবিধিই প্রণয়ন হয়নি। খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছুর সংকট আছে। এখনো অবকাঠামোই গড়ে ওঠেনি অনেকগুলোর। মেডিকেল শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ কাজগুলো আমরা দ্রুত সময়ে করার চেষ্টা করছি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান বিষয়েও আমরা কাজ শুরু করেছি। এ লক্ষ্যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি। বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে কিংবা পড়াশোনার জন্য বিপুল অর্থ নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ শোনা যায়। তাই এ খরচ যৌক্তিক এবং সহনীয় রাখার বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য আসে। এতে দেশের মেডিকেল শিক্ষার সুনাম বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি দেশের রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এই বিদেশি শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এ শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ভর্তি হয়। তাই তাদের উপস্থিতি বাড়াতে শিক্ষা এবং অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ সেবার মান বৃদ্ধিতে নেওয়া নানামুখী উদ্যোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসকের পদায়ন নিশ্চিত করা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নত করা, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট হলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হলেও পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে আশা করি হাসপাতালে খোঁজ নিলে বিনা কারণে চিকিৎসক অনুপস্থিত পাবেন না। আমরা এ বিষয়টা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আমি নিজেও হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করব। তবে কাজের চাপের কারণে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। কিন্তু পরিদর্শন না করতে পারলেও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছি। খুব দ্রুতই তা দৃশ্যমান হবে। করোনা মহামারিসহ দেশের বড় দুর্যোগে চিকিৎসকরা এগিয়ে এসে সেবা দিয়েছেন। তারা সম্মানি মানুষ। আমাদের প্রত্যাশা- প্রত্যেকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সম্মানের সঙ্গে পালন করবেন। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নয়তো এ বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সরকারের একার পক্ষে সামলানো সম্ভব ছিল না। বেসরকারি হাসপাতালে সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’ সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘চলমান সংকট কাটিয়ে মানুষের আস্থা ফেরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। নারী স্বাস্থ্য উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যুর হার কমানো এবং মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১ লাখ নার্স নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হতে পারেন। অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত স্বাস্থ্য প্রশাসন গড়ে তোলা এবং মাঠ পর্যায়ের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ শুরু করেছি।’ [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]