জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক দুটি রিটের ওপর আদেশের জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয় এবং একই বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ জন্য ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর গণভোটের বিধান প্রণয়নে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২৩ ফেব্রুয়ারি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা। অপরদিকে, বাস্তবায়ন আদেশের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি রিট করেন আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও গাজী কামরুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক।
প্রথম রিটে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও অধ্যাদেশের কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারাধীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ধারার কার্যক্রম স্থগিত রাখারও আবেদন জানানো হয়েছে। অপর রিটেও বাস্তবায়ন আদেশ ও শপথের চিঠি বাতিল চেয়ে রুল এবং অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করা হয়েছে।