চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসএমজি ও পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি এসএমজি, বিদেশি পিস্তল, রিভলভার, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত থেকে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, চকবাজার থানার একটি দল অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), ডিসি দক্ষিণ ও ওসি চকবাজারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ওরফে ইমনকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া রিভলভার ও গুলি পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল। আটক ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত আট হত্যা মামলার আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির নামে আরেক সহযোগীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ এমএম পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এই বিদেশি পিস্তলটি ডবলমুরিং থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল।
পরে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সায়েম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্র খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।
পুলিশের তথ্য মতে, গ্রেপ্তার মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে এবং তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। এছাড়া তাদের কাছ থেকে নতুন সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে ডিবি পুলিশের একটি দল কোতয়ালী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজন পেশাদার ছিনতাইকারীকে আটক করেছে।
সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে মহানগরজুড়ে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসএমজি দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চকবাজার থানার আওতাধীন স্মার্ট গ্রুপের এমডির বাসভবনে গুলি চালানো হয়েছিল বলে গ্রেপ্তার ইমন স্বীকার করেছে।
পুলিশের দাবি, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মহানগরীতে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।