খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সমালোচনা করা পৃথিবীতে সহজতম কাজ, আমরা সমালোচনা বন্ধ করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চাই। একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই যাতে আগামী প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) খাদ্য ভবনে খাদ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের প্রত্যাশা এ সরকারের কাছে অনেক বেশি।
তিনি জানান, দেশে উৎপাদিত খাদ্যে বিভিন্ন পরীক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত হেভি মেটালের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে, যা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কৃষক, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যের গুণগত মানের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মানুষ যাতে খাদ্য নিয়ে কোনো উদ্বেগে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একদিকে খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে খাদ্যের মানও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে উন্নত করা গেলে আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে সব ধরনের কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দায়িত্ব তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তখন তারা USFDA’র সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তাদের দেওয়া সনদ বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যপণ্য রপ্তানিও সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য বলেন, গতানুগতিক ধারার পরিবর্তে ভিন্নতা নিয়ে কাজ শুরু করতে চান তিনি। মানুষের কল্যাণে কাজ করতেই দায়িত্ব নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানও তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টিমওয়ার্কের মাধ্যমে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কাজের ধারাবাহিকতা ও সিস্টেম দেখে বর্তমান প্রজন্মকে স্মরণ করে—সে লক্ষ্যেই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম কামরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সভায় প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা ও ভেজালমুক্ত খাদ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ কাজে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চান।
খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, অধিদপ্তরের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। তিনি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভুল তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, সরকারের গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবেন।