ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক তৎপরতার সামনে নতি স্বীকার করবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো যত চাপই সৃষ্টি করুক না কেন, ইরান মাথা নত করবে না।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের প্যারালিম্পিক্স দলের সম্মাননা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন,‘আমাদের দমিয়ে রাখতে বিশ্বশক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক, আমরা নতি স্বীকার করব না।’
এদিকে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজারো মৃত্যুর জন্য আবারও ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ৩ হাজারের বেশি নিহতের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার। এই দাবির পক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে পেজেশকিয়ান প্রশাসন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি ওয়াশিংটন–তেহরান উত্তেজনা এখন সামরিক প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে।
পর্তুগালের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জের ‘লাজেস বিমান ঘাঁটি’তে মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েনের তথ্য সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রয়োজনে ইরানে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে।
এর মধ্যেই কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সেনা সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন। সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয় গণমাধ্যমের।
অন্যদিকে যেকোনো সামরিক হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির স্থলবাহিনীর কমান্ডার আলি জাহানশাহী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতাই শত্রুপক্ষের যেকোনো অভিযান বা ভুল হিসাব রুখে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার। তিনি আরও জানান, যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তেহরান প্রস্তুত।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা ইরানের রয়েছে। [সূত্র: রয়টার্স, এএফপি]