তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে কোনো বিভাজন সৃষ্টি হতে দেবে না সরকার। সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
শনিবার ১১ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হলি রোজারী চার্চ ক্যাম্পাসের মাদার তেরেজা ভবনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই নীতির ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, অতীতে ধর্মকে ব্যবহার করে যারা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছে, তারা গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্মভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের অধিকার নির্ধারণ করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। মাঝে মাঝে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা হলেও জনগণের সচেতনতার কারণে তা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, কারো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ছোট-বড় করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সমান এবং সরকার সেই অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, তার নেতৃত্বে এলাকায় তারা নিরাপদে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি তোলেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং তাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়া হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।