পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিষয়টি কেবল চুক্তির একটি ধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো প্রশাসনিক বাস্তবতা বোঝা যায় না।
প্রথমত, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল স্থিতিশীলতা, আস্থা পুনর্গঠন এবং মূলধারার প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা। চুক্তির উদ্দেশ্য কখনোই বিভাজন তৈরি করা নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
দ্বিতীয়ত, মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী—দুই স্তরের নিয়োগের মধ্য দিয়ে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করেছে। একজন স্থানীয় প্রতিনিধি এবং একজন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পায়। এটি কেন্দ্র ও পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করতে পারে।
তৃতীয়ত, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ গঠন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত। প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা—সব দিক বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধুমাত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
চতুর্থত, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি সংবেদনশীল অঞ্চল। উন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি বহুমাত্রিক প্রশাসনিক টিম গঠনকে অনেক বিশ্লেষক কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই নিয়োগ চুক্তি বাতিল বা অস্বীকারের ঘোষণা নয়। বরং সরকার যদি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়, আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা কার্যকর করে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করে, তাহলে আস্থা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্তি মানে শুধু পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ নয়; বরং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা যেখানে সব পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। উন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত প্রশাসনিক টিম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সংশ্লিষ্ট মহল আরও বলছে, এই নিয়োগ চুক্তি অস্বীকার বা বাতিলের ইঙ্গিত নয়; বরং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন কাঠামোগত উদ্যোগ। আঞ্চলিক পরিষদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার হলে আস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত প্রশাসনের কৌশলগত অংশ হিসেবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ: সমন্বিত প্রশাসনের কৌশলগত পদক্ষেপ
2
previous post