বাঁধ নির্মাণকাজে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে আমাদের মহৎ কাজের বদনাম যেন না হয়, সে জন্য আমরা পাহারাদারের ভূমিকায় আছি।’
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী স্বীকার করেন, অতীতে বাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তবে এবার দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হবে এবং নীতিমালা মেনে কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি। যে কাজ হবে, তার অর্থ ঠিকাদার পাবে—কিন্তু কাজ সঠিকভাবে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
মন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার থাকে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একযোগে তদারকি করলে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাওরাঞ্চলে খাল খনন, পুনঃখনন, নদী ও ড্রেজিং কার্যক্রমের পাশাপাশি টেকসই বাঁধ নির্মাণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থে এসব কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নদী খনন কার্যক্রম চলমান আছে; যেখানে প্রয়োজন, নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে।’
বাঁধ নির্মাণে হাওরের জমি ও উঁচু ভূমি কাটার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সকালে সড়কপথে সুনামগঞ্জে পৌঁছালে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে তিনি হাওর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।