বাংলাদেশের আলুচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া শেষে ভিয়েতনাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। শুক্রবার দেশটির কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ অনুমোদন দেয় বলে হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মে মাসে এ প্রক্রিয়া শুরু করে। হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাশাপাশি বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশি আলুকে আমদানিযোগ্য পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এ সাফল্যকে দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই অনুমোদনের ফলে বাংলাদেশি আলু রপ্তানিকারকদের সামনে বড় বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি সুবিধা পাবেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে ভিয়েতনামে আলুর উচ্চ চাহিদার কারণে নিয়মিত রপ্তানি শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতিও কমে আসতে পারে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, শুধু আলুই নয়, তিলসহ অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য রপ্তানির বিষয়েও কাজ এগিয়ে চলছে।
এদিকে দেশের বাজারে বর্তমানে আলুর দাম তুলনামূলক কম। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজারে শনিবার প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২২ শতাংশ কম। অন্যদিকে উৎপাদন অঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সীগঞ্জে কৃষকরা পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৬ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ জানিয়েছেন, উচ্চ ফলনশীল, রপ্তানিযোগ্য এবং শিল্পে ব্যবহার উপযোগী নতুন আলুর জাত সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। তার মতে, নতুন কিছু জাত ব্যবহার করে একই জমি থেকে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি উৎপাদন সম্ভব।
তবে রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হলেও কৃষকের বাস্তব সংকট এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, রপ্তানির এই খবর স্বস্তিদায়ক হলেও অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না থাকলে এ সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। বিশেষ করে হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বাংলাদেশি আলুর রপ্তানি আরও অনেক বাড়বে এবং কৃষকরাও স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ পাবেন।