মিয়ানমারে নির্বাচন হয়েছে, বড় শক্তিগুলো অভিনন্দন জানিয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ভারত স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে রাখাইন রাজ্যে ক্ষমতার চিত্র এখনো বিভক্ত। দেশজুড়ে ভোট হলেও বহু এলাকায় তা হয়নি, আর রাখাইনের বড় অংশ এখনো আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক বার্তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হয়নি।
চীনের জন্য রাখাইন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিয়াউকফিউ বন্দর, তেল-গ্যাস পাইপলাইন ও সম্ভাব্য রেলপথ তাদের ভারত মহাসাগর প্রবেশ কৌশলের অংশ। কিন্তু প্রকল্প এলাকার বড় অংশই সংঘাতপ্রবণ। জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও বেইজিং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারেনি। রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতাও জান্তার অবস্থান কিছুটা শক্ত করেছে, তবে রাখাইনে আরাকান আর্মিকে সরাতে পারেনি। বরং বিমান ও নৌ হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বাড়ছে।
এই বাস্তবতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে চায়, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে। নতুন সরকারও দ্রুত প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত মিলছে। তবে বাস্তবতা হলো—রাখাইনে নিরাপত্তা নেই, নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নেই, এবং রাজনৈতিক সমঝোতাও অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান কাঠামোয় টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। সংঘাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ঘটতে পারে, যার চাপ আবারও বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে পড়বে। ফলে রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মানবিক ইস্যু নয়, এটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতির অংশ।
রাখাইনের ভবিষ্যৎ তাই এখনো অনির্ধারিত। জান্তা শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ বিভক্ত। সংঘাত না থামলে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধান না এলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিনই থেকে যাবে।