দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে চলমান অস্থিরতার পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও করে খোলা তেল বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে একাধিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
রাজধানীর নয়াবাজার, জিনজিরা, মালিবাগ, বাড্ডা, মুগদা, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বোতলজাত তেলের সরবরাহ সীমিত বা অনুপস্থিত। অনেক দোকানে নির্ধারিত দামের তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে খোলা সয়াবিন তেল ২০৮ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকার বাইরে সরিষাবাড়ী (জামালপুর) এবং খুলনা অঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু ডিলার ও এজেন্ট মিলে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে তা খোলা তেল হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর মালিবাগ ও আগারগাঁও, পাশাপাশি কেরানীগঞ্জ ও জিনজিরা এলাকায় গুদাম তল্লাশিতে অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া খুলনার পাইকারি বাজার এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায়ও মজুতদারির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেলিভারি অর্ডার (DO) প্রথার অপব্যবহার এবং সরবরাহ চেইনে ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাজারকে প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাত থাকলেও মূল সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সিন্ডিকেট কার্যক্রমকে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন—অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তার নির্দেশনায় র্যাব, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা, গুদাম সিলগালা এবং মজুত তেল জব্দের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সরকার বলছে, বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধারাবাহিক কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অন্যথায়, এই কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে।