পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের অনুমতি দিয়েছে ইরান ও ওমান।
আঞ্চরিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং কোনো ধরনের টোল আরোপ করা হতো না। তবে প্রণালির ওপর ইরান ও ওমানের যৌথ ভূখণ্ডগত অধিকার থাকার কারণে তারা এখন টোল আদায়ের মাধ্যমে আয় করতে পারবে।
এপি’র বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান প্রাপ্ত অর্থ দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করবে। অন্যদিকে, ওমানের অর্থের ব্যবহার কীভাবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি উভয় দেশের জলসীমার মধ্য দিয়ে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, টোল আরোপের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব বিশ্লেষণযোগ্য।
হরমুজ প্রণালিতে দৈনিক হাজার হাজার টন তেল ও পণ্য পরিবহন হয়। এর ওপর টোল আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, খরচ ও বাণিজ্যিক চুক্তিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও অঞ্চলের কৌশলগত নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। [সূত্র: আল-জাজিরা]