রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় পৃথক অভিযানে দেশের ইতিহাসে এক অভিযানে সর্বোচ্চ ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় অনলাইনে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশজুড়ে শিশা সরবরাহকারী একটি চক্রের মূলহোতা দুই সহোদরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ডিএনসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
ডিএনসি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা ও রমনায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুটি কুরিয়ার পার্সেল থেকে ২ কেজি শিশা জব্দ করা হয়। পার্সেলের প্রেরকের তথ্য অনুসরণ করে গুলশানের কালাচাঁদপুরে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই সহোদরকে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভাটারার নূরেরচালায় আরেক অভিযানে মো. মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে আরও ১৮ কেজি শিশা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।
চারটি স্থানে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে মোট ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি শিশা সেবনের কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসির দাবি, এটি দেশে এক অভিযানে জব্দ হওয়া সর্ববৃহৎ শিশার চালান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই সহোদর দীর্ঘদিন ইরানে অবস্থানকালে শিশা ব্যবসার কৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে তারা একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে শিশা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশা পাঠানো হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। এসব আর্থিক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহ ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক ক্রেতার তথ্য, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।
ডিএনসি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কুরিয়ার সেবা ও মোবাইল আর্থিক সেবাকে ব্যবহার করে নতুন কৌশলে মাদক ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে সাইবার নজরদারি, আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।