বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, মানসম্মত শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং তরুণদের ক্ষমতায়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি এক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি এবং সম্প্রতি টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্পকে ইউনেস্কোর ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’-তে অন্তর্ভুক্তি সেই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, সরকার মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের ক্ষমতায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি), ভাষা প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ইউনেস্কোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ইউনেস্কোর মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠকে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভিজে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ইউনেস্কোর আগ্রহের কথা জানান।
ড. সুসান ভিজে বলেন, বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের তরুণদের প্রতিভা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে একমত পোষণ করে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সৃজনশীল অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।