জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। এপ্রিল-জুন সময়ে এ খাতের নিট রপ্তানি আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তৈরি পোশাকের নিট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬২৩ কোটি ডলারে। এর আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই আয় ছিল ৫৬৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে নিট রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫৯ কোটি ডলার।
একই সময়ে তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে মোট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ১০ কোটি ডলার।
নিট পোশাকে বড় প্রবৃদ্ধি
চতুর্থ প্রান্তিকে পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নিট পোশাক। জানুয়ারি-মার্চে ৪৬১ কোটি ডলারের নিট পোশাক রপ্তানি হলেও এপ্রিল-জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ কোটি ডলারে।
অর্থাৎ এক প্রান্তিকের ব্যবধানে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। এর ফলে তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনামূলক দুর্বল অবস্থার পর সামগ্রিক পোশাক খাতে আবারও প্রবৃদ্ধির গতি দেখা দিয়েছে।
সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ
তবে রপ্তানি খাতের এই ইতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি শিল্পসংশ্লিষ্টদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতা বাড়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এসব অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা গেলে নতুন অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে এই খাতের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।