বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং বিনিয়োগ বাড়াতে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। বৈঠকে তিনি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন ফজলুল হক। তিনি চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও খুলনায় শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসারত চীনা উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ফজলুল হক বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এফবিসিসিআই, চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের (সিইএবি) মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও বলেন তিনি।
জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চীনা দূতাবাস আন্তরিকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি বৈদ্যুতিক যান (ইভি), ফল ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পর্যটন খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর এবং ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গত এক দশকে বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য অনেক বেড়েছে, তবে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তুলনামূলক কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীনে প্রায় ৬৯৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে চীন থেকে আমদানি করেছে প্রায় ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য—যা রপ্তানির চেয়ে প্রায় ২৬ গুণ বেশি। এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন ফজলুল হক।