১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামে হঠাৎ রাতের নীরবতা চুরমার করে ধেয়ে এল একের পর এক বোমা ও গুলির শব্দ। বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে তখন চলছে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দুঃসাহসিক অভিযান। মাস্টারদা সূর্য সেনের বিশ্বস্ত এই যোদ্ধা নারী বিপ্লবীদের সংগঠিত করেছিলেন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে।
আক্রমণ সফল হলো। কিন্তু ফেরার পথে হঠাৎ একটি গুলি এসে বিধল প্রীতিলতার শরীরে। রক্তে ভিজে উঠল মাটি। পুলিশের হাতে ধরা পড়বেন? না, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও সেই সুযোগ তিনি শত্রুকে দিলেন না। পকেটে রাখা পটাশিয়াম সায়ানাইড মুখে তুলে নিলেন। স্বাধীন বাংলার স্বপ্নে আত্মাহুতি দিলেন মাত্র ২১ বছর বয়সের এই মহীয়সী নারী।
সেই শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ।
মাস্টারদা সূর্য সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা প্রীতিলতা ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার ছিলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরানি এবং মা প্রতিভা দেবী ছিলেন গৃহিণী।
প্রীতিলতা ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ ম্যাট্রিক পাস করেন।
পরে ইডেন মহিলা কলেজে পড়ার সময় বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯২৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইএ পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় পঞ্চম এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হন তিনি। পরে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক পাস করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন প্রীতিলতা।