রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ এবং লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন ও নাশকতা পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা এই অপতৎপরতার পেছনে থাকা মূল নেটওয়ার্ক, অর্থের জোগানদাতা এবং সহায়তাকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে শুরু করেছেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। যাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনই প্রকাশ না করা হলেও, তাদের ওপর কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই দেশজুড়ে নাশকতা সৃষ্টি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই নেটওয়ার্কটি সক্রিয় ছিল। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। তদন্তে ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা” এবং “বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি” নামে সক্রিয় কিছু গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারবিরোধী প্রচারণায় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো, অন্যদিকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিপুল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ ও বণ্টন করা হতো। এই তহবিলের সংগ্রাহক ও বিতরণকারীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক পলাতক নেতার সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কাজী গুলশান আরার ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন সফর এবং ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠনের অতীত ভূমিকা বর্তমান মামলার সঙ্গে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। নাশকতার এই পরিকল্পনায় অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি চাকরিরত কারও কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, “আওয়ামী লীগের নামে যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। দেবাশীষ ও গুলশান আরার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে খুব শীঘ্রই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও প্রয়োজনে নতুন গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হবে।