ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থানরত নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে অবশেষে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
বিজিবির সতর্ক অবস্থান, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং পুশ-ইন প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের পর রোববার গভীর রাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার পর বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশুসহ মোট ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে তারা আর সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন না।
এর আগে গত ৬ জুন ভোরে বিএসএফ ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকে তারা মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে তাদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশু থাকায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে বিজিবি শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থান নেয়। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে।
স্থানীয়দের ধারণা, বিজিবির কূটনৈতিক তৎপরতা, সীমান্তে দৃঢ় অবস্থান এবং নারী-শিশুদের মানবিক সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
সীমান্ত সুরক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই সতর্ক ও দৃঢ় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।