জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া আরও টেকসই ও মসৃণ করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-র অধিকতর সহায়তা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১০ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএস-এর নির্বাহী বোর্ডের বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থিতিশীল, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইউএনডিপির ‘ব্যালট (BALLOT) প্রকল্প’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার—সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন সুসংহত করার লক্ষ্যে ইউএনডিপির সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। এ কারণে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে সহজ ও কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তা আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইউএনডিপির ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধিবেশনে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু অভিযোজন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে বিশেষ সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।