দেশের শিল্পোৎপাদন ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে চলতি জুন মাসে আরও চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই চার কার্গোতে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) গ্যাস থাকবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জুন মাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল ১৫ জুন পর্যন্ত পাঁচটি কার্গো ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের জন্য নির্ধারিত নয়টি কার্গোর মধ্যে পাঁচটি সংগ্রহ করা হয়েছে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়। বাকি চারটি কার্গোও স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সাধারণত প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে গড়ে ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে।
এর আগে গত মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ গ্যাস আমদানি করেছিল সরকার। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিসহ স্পট মার্কেট থেকে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আনা হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।
এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে খোলা বাজার থেকেও এলএনজি আমদানি করছি।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্যমতে, বর্তমানে কাতার এনার্জি এবং ওমানের ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। এর বাইরে জরুরি প্রয়োজনে প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুন মাসে এই অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির ফলে লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে।