কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
তবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল পর্যন্ত জেলা সদরসহ কোথাও আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা কেক কাটার অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া যায়নি।
জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় দেখা গেছে। অনেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান, ছবি, ব্যানার ও ফটোকার্ড পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ ও জনবহুল এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জে পৌঁছায়। তবে কতসংখ্যক সেনাসদস্য বা কতটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, জেলার পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোথাও কোনো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে অবস্থান করবে। এ সময়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।