দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় কারাবরণ, নির্যাতন, মামলা ও প্রবাসজীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে দলের নেতৃত্বে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন তিনি।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। ওই সময় তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়। কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। পরে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করেও বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন বলে বিএনপির নেতারা দাবি করেন।
তার রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল দীর্ঘ প্রবাসজীবন। এ সময়ে মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও অসুস্থতা, পরিবারের সদস্যদের হারানোর মতো ব্যক্তিগত সংকটও মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকে।
পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরেন তারেক রহমান।
দেশে ফেরার পর দলীয় কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হন তিনি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে দলীয় সিদ্ধান্তে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পূর্ণ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
এরপর দেশজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় সফর করেন তিনি। বিএনপির নেতৃত্বে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কারাবাস ও প্রবাসজীবন পেরিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্বে আসা তারেক রহমানের দুই দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি; আর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি ক্ষমতার পালাবদলের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।