কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, খাল পুনঃখনন, আধুনিক সেচব্যবস্থা এবং কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষিখাতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা হবে।
শনিবার সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রায় তিন হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি উন্নয়নের জন্য খাল পুনরুদ্ধার ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সিলেটের বাসিয়া খালসহ বিভিন্ন খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় ভৌগোলিক কারণে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেচব্যবস্থা উন্নত করে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল আবাদ করার সুযোগ তৈরি করা হবে, যা খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, ফলে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সেবা সহজে ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বা জরুরি কৃষি-তথ্যও দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষিজমির ম্যাপিং করবে। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন ফসল সবচেয়ে উপযোগী এবং লাভজনক, সে বিষয়ে কৃষকদের তথ্যভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আরও সক্ষম হবেন।
কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সীমিত আবাদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জমি অনাবাদি রাখা যাবে না। একই অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে একই ধরনের ফসল চাষ হলে সরকারি সহায়তা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খাল পুনঃখনন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশে কৃষিখাতে নতুন গতি তৈরি হবে।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ধারাবাহিকতায় সিলেটের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নকেও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সারসহ মোট ২৫ কেজি কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াত। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরাও বক্তব্য দেন।