পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে।
শনিবার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ডি-১৫ এন খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় মন্ত্রী নিজ হাতে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজের সূচনা করেন। এর আগে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় খনন করা অনেক খাল অবহেলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, এখন সেগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অতীতে খাল দখল ও অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে সেসব রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। স্বাগত বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
এর আগে দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে মোট ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পর্যায়ক্রমে পুনঃখনন করা হবে। প্রথম ধাপে ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর খালটি পুনঃখননের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।