প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু খেলাধুলায় নয়, লেখাপড়া, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সবকিছুতে পারদর্শী হয়ে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশব্যাপী প্রায় ২২ লাখ বালক-বালিকা এই ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে এবং দেড় মাসে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আয়োজকদের গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন, যাতে এ বিশাল ক্রীড়া আয়োজন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে পারে।
ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, “ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনেছে। ইনশাআল্লাহ, ফুটবল, হকি, সাঁতার ও টেনিস দিয়েও একদিন বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার কাপ’ আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং মাঠে খেলতে তাদের উৎসাহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “খেলা ছাড়লে চলবে না, আবার লেখাপড়াও করতে হবে। যে যে খেলা পছন্দ করে, সে সেই খেলা চালিয়ে যাবে।”
টুর্নামেন্টের বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বালক বিভাগের ফাইনালে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী দল, রানার্সআপ দল, সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও রেফারিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে বর্ণিল ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে বালিকা বিভাগের চূড়ান্ত খেলার উদ্বোধন করেন।
গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজনে ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নেয়। গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে অংশগ্রহণ করে।
প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া চর্চা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।