দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। তবে, এফএসআরইউটির সমস্যা দ্রুত সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার।
আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব অনুভব করছেন। কোথাও কোথাও সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে না পারায় দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফএসআরইউটির কারিগরি ত্রুটি দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
সরকারের মতে, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব আরো তীব্র হয়েছে। অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি গ্যাসকূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় দরপত্র আহ্বান এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগে। তাই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের স্থায়ী সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব না হলেও সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদারে সরকার আরো কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামোর বহুমুখীকরণ।
সরকার জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।