চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ আরও বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই)। দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য অন্তত ২০টি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপনসহ ছয়টি লিখিত প্রস্তাব বাণিজ্য সচিবের কাছে দিয়েছে সংগঠনটি।
বিজিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।
বৈঠকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ বা গুদামের অপব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিজিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্ডেড পণ্য অননুমোদিতভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে চীন থেকে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত বিনিয়োগকারী এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বিজিসিসিআইয়ের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—চীনে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য অন্তত ২০টি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন, দেশটির বাজারে রপ্তানি বাড়ানো, বড় বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা, বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনে সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
বৈঠকে কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত দশম চীন-দক্ষিণ এশিয়া প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরে বিজিসিসিআই প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশের পণ্যের প্রচার আরও বাড়ানো এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বিজিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হান জিংচাও, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এ জেড এম আজিজুর রহমান, মহাসচিব জামিলুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।