জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার পর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলীয়ভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে সুজাউদ্দৌলা লেখেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবে যেমন রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হতো বলে তিনি মনে করেন, তেমনি জামায়াতের ‘মেশিনে’ গেলে অপরাধী, দুর্নীতিবাজ ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও ‘ফেরেশতা’ হয়ে বের হন। একইভাবে ‘ছাগল চোর’ও রাজনীতিবিদ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি এসব মন্তব্য করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
সুজাউদ্দৌলা তার পোস্টে দাবি করেন, বিমানবন্দরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে আখতারুজ্জামানের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় মেজর আখতারুজ্জামানের ভূমিকা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরে শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দরের ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে অবশ্য তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
সুজাউদ্দৌলা তার পোস্টের শেষাংশে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সরকার অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জামায়াত অপরাধীদের ‘আশ্রয়’ দিচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।