জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সততা বজায় রাখা এবং চাঁদাবাজি ও অনিয়ম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জামায়াতের সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, দলটির প্রতি আস্থা রাখা যায় না। এ প্রসঙ্গে তিনি সাপের সঙ্গে জামায়াতের তুলনা করে একটি মন্তব্য করেন এবং নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় তাই সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি কিংবা ক্ষমতার প্রভাব খাটালে জনগণ তা মেনে নেবে না। তাই এখন থেকেই নেতা-কর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা করা উচিত। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার সমালোচনা করেন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তার রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ ও আপত্তি রয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগও করেন তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ আবার রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার যে বক্তব্য দিচ্ছে, তার সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, সরকার হুমায়ুন কবির, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ স্থানীয় নেতারা।