পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে জার্মান সংসদ বুন্দেস্তাগের পরিবেশ কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সম্পর্ক শুধু বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতায় নয়, পরিবেশগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে জার্মানির কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়, সার্কুলার অর্থনীতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পানি পুনঃব্যবহার এবং পরিবেশগত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, গ্রিন কুলিং, কার্বন নিঃসরণ কমানো, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, জিআইজেড এবং কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ও জার্মানি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ দেশের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং পরিবেশগত সুশাসন শক্তিশালী করতে সহায়ক হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিস্তারে আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে জলবায়ু ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জার্মানির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ বা বিসিডিপি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ উদ্যোগের আওতায় জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ, নীতিগত সংস্কার ত্বরান্বিত করা, উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে জার্মান সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে কার্বন মার্কেট থেকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের ক্ষেত্রেও জার্মান সহায়তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
জার্মান প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তাদের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।