রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসা এক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা তৎপরতায় আটক করা হয়েছে। রোববার (ভোর ৭টার দিকে) আগারগাঁও পানির ট্যাংকি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির নাম মো. আব্দুস সালাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বা সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, বদলি বা প্রশাসনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস এবং বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রভাব খাটানোর কথা বলে আর্থিক লেনদেন করতেন।
তদন্তে জানা গেছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে সুপারিশমূলক বার্তা পাঠাতেন। এসব বার্তায় তিনি বিভিন্ন প্রার্থীর চাকরি, বদলি, ব্যাংক ঋণের সিআইবি রেকর্ড সংশোধন কিংবা সরকারি সেবা পাওয়ার বিষয়ে “দয়া করে বিষয়টি বিবেচনা করার” অনুরোধ জানাতেন। নিজের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি বিভিন্ন প্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড, ব্যক্তিগত তথ্য, পরীক্ষার রোল নম্বর বা সরকারি নথির কপিও পাঠাতেন।
গোয়েন্দা তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি কখনও সেনাবাহিনীর সৈনিক নিয়োগ, কখনও সরকারি চাকরির নিয়োগ বা বদলি, আবার কখনও ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে “প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত সচিব” পরিচয় দিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের কাছে সুপারিশমূলক বার্তা পাঠিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন।
সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে তার এই কার্যক্রম নজরদারিতে ছিল। পরে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আগারগাঁওয়ের বাসা থেকে আটক করা হয়। অভিযানে তার ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল ফোন, নথিপত্র এবং প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্যও জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং কতজন ব্যক্তি তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
5