রংপুরের তারাগঞ্জে বিয়ের দাবিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চত্বরে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অনশন করেছেন এক নারী। অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন (৩৭) ওই দপ্তরের ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ) হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর বাড়ির সামনে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন ফিরোজ। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে অফিসে ফিরোজ উপস্থিত হলে ভুক্তভোগী ওই নারী তাকে দেখতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করার সময় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ এসে ওই নারীকে হাসপাতাল থেকে বাইরে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই নারী প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে সামনে ফিরোজ হোসেনের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অফিস শেষে পুলিশের সহায়তায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার গাড়িতে করে ফিরোজ হোসেনকে বের করা হলে তিনি গাড়ির সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানে পুলিশের নারী সদস্যরা তাকে সরিয়ে দেন। গাড়ি চলে গেলে ভুক্তভোগী নারী আবার মহাসড়কে আত্মহত্যার চেষ্টায় দাঁড়ান।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। সম্প্রতি ফিরোজের অন্যত্র বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে সাড়া না পেয়ে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি অভিযুক্ত ফিরোজের থাকার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে পরিবার জানায়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর আবারও বিয়ের আশ্বাস দেন ফিরোজ, তবে পরে তা এড়িয়ে যান।
মঙ্গলবার সকালে অফিসে এলে বিয়ের দাবিতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেতরে গিয়ে ফিরোজের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন ওই নারী। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে অফিসের বাইরে সরিয়ে দেন। পরে তিনি হাসপাতালের সামনে অনশনে বসেন।
অনশনরত ওই নারী বলেন, “ভালবাসার সম্পর্ক তৈরি করে বিয়ের কথা বলে আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এখন বিয়ে না করলে আমি বাঁচব না।”
অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন বলেন, “ওই নারীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় আদালতে মামলা রয়েছে বলে শুনেছি। আদালতই প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করবে।”