সব ধরনের বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়তে শুধু নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, এখন প্রয়োজন আরও কার্যকর ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ। এ লক্ষ্যে তিনি সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মারক অধিবেশনে তিনি এ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্য প্রতিরোধে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর প্রতি বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি ধরে রেখেছে এবং এ বিষয়ে দেশের অবস্থান দৃঢ় ও স্পষ্ট।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইন ও গাজায় চলমান নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে সীমিত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এসব বাস্তবতা জাতিসংঘের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বর্ণবাদমুক্ত একটি বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, অনলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ঠেকানো এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বৈষম্য ও অন্যায় রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।