সংঘাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া কোনো দেশ যথাযথভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে এম.বি.এ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একে অপরকে দোষারোপ, প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে হয়রানির রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনে নেলসন ম্যান্ডেলার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রক্তপাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দেশটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি ম্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গবেষণামূলক সত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে সচেতন করতে ম্যাব ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক উত্তরণেও সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘ম্যাব’-এর মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি সংগঠনটির যোগ্য ও দক্ষ সদস্যদের তাদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ম্যাবের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। তারা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধিরা ম্যাবের বিভিন্ন কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির অতীত সহযোগিতা ও উৎসাহের কথা উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও তারা রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ম্যাবের সভাপতি সৈয়দ আলমগীর, মহাসচিব ড. মো. সামসুজ্জামান, সহসভাপতি প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, ফরিদা আহমেদ নিকু, যুগ্ম মহাসচিব মো. শহিদুর রহমান ও আদনান সাবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার, কোষাধ্যক্ষ এস এম সুলতান কবির এবং গবেষণা সম্পাদক ড. মনিরুল হাসান মাসুম।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব ও সহকারী সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।