কক্সবাজার জেলা ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ২৬ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে জাপান সরকার। এই সহায়তা বাস্তবায়ন করবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত নোট বিনিময় চুক্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জিউসেপ্পে লোপ্রেতে স্বাক্ষর করেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য উপকৃত হবেন। শরণার্থী শিবিরে বাসস্থান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, রান্নার গ্যাস সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শিবির ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবিকা সহায়তাও দেওয়া হবে।
কক্সবাজারের দুর্যোগপ্রবণ ও বাস্তুচ্যুত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, জাপান সরকারের এই সহায়তা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক সংকটে জাপান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান জিউসেপ্পে লোপ্রেতে বলেন, কক্সবাজারে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে, কারণ শরণার্থীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত। তিনি জাপান সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে জাপান বাংলাদেশে মানবিক সহায়তায় ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে আসছে। সর্বশেষ অনুদানসহ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে জাপান ইতোমধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে।