স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার এক নির্ভীক প্রহরী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ছিলেন।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান বহুমাত্রিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তিনি জাতিকে সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রশ্নে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই জাতীয় অগ্রগতি ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণতন্ত্রের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই পরিচালিত করা হবে। জনগণের অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভিত্তি সুসংহত করা হবে।
তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও ত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মাজার জিয়ারত শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, খাদ্য বিতরণ এবং নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।