বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাতে শুরু করেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মাইন স্থাপনের ঘটনা খুব ব্যাপক নয়। গত কয়েক দিনে সীমিত সংখ্যক মাইন বসানো হয়েছে।
তবে একটি সূত্রের দাবি, ইরানের হাতে এখনো প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী নৌযান অক্ষত রয়েছে। ফলে চাইলে দেশটি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রণালিজুড়ে কয়েক শত মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি ওই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই দ্রুতগামী নৌকা এবং উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসিয়ে থাকে, তবে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, মাইন সরানো না হলে ইরানকে ‘নজিরবিহীন পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান যদি এগুলো সরিয়ে নেয়, সেটি হবে ‘সঠিক পথে বড় পদক্ষেপ’।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের নিষ্ক্রিয় মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে।
পরে সেন্টকম দাবি করে, তারা প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করেছে।
এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ঝুঁকির কারণে অনেকেই বর্তমানে প্রণালিটিকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে বর্ণনা করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে সরাসরি পাহারা দিয়ে এই প্রণালি পার করে দেয়নি।
তবে ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নৌযান মোতায়েন রয়েছে এবং মাইন শনাক্ত করার জন্য তাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। [সূত্র: সিএনএন]