দেশে হামের বাড়তি সংক্রমণ মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
জাতীয় সংসদে এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেনের জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে আইসোলেশন সুবিধার ঘাটতির অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
আইসিইউ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নতুন আইসিইউ তৈরি করা সময়সাপেক্ষ হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইনফেকশাস ডিজিজ সেন্টারে মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূর্বে অচল হয়ে থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট পুনরায় চালু করে সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম সচল করা হয়েছে।
রাজশাহীতে হামের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরদিনই সেখানে ভেন্টিলেটর পাঠানো, আইসিইউ চালু এবং সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন বাজেট এখনো উপস্থাপন হয়নি, তবে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী জানান, দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে অতীত সরকারের টিকাদান কার্যক্রমে দীর্ঘ বিরতি একটি বড় কারণ। ২০২০ সালের পর দীর্ঘ সময় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮ জেলা ও ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য ১২ লাখ শিশু। প্রথম দিনেই প্রায় ৯৬ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে।
তিনি জানান, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ প্রদান করা হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আইসোলেশন, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) এবং বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় টিকা সংগ্রহ ও কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।