১৯৯০ সাল। স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে তখন তীব্র গণআন্দোলন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বৈরশাসনের অবসানের দাবিতে রাজপথে নেমেছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজসহ সাধারণ মানুষ। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল।
আন্দোলনের এমনই এক উত্তাল সময়ে ১৯৯০ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকার মঈনুল রোডে তৎকালীন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র একটি দল বাসভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণ করে বলে সে সময়ের বর্ণনায় উঠে আসে।
হামলার সময় বাসভবনে ছিলেন না খালেদা জিয়া। তবে সেখানে অবস্থান করছিলেন তাঁর তরুণ ছেলে তারেক রহমান। হামলাকারীদের হাতে তিনি আক্রান্ত হন বলে জানা যায়। ঘটনাটি সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে সংঘটিত এই হামলা দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি আলোচিত ঘটনা হিসেবে সামনে আসে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতার মধ্যে ঘটনাটি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
১৯৯০ সালের গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত এরশাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে যায়।
তবে সেই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে সংঘটিত হামলা, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নানা ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও আলোচিত। ২০ নভেম্বরের ওই হামলাও সেই সময়ের অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়।