নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদারে দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রবিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর পর প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি জানান, সমাজে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতির গুরুত্ব ক্রমেই কমে যাচ্ছে এবং এর ফলে নানা ধরনের অনৈতিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় শিক্ষা জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিষয়টি ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষেত্রে অবলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আমাদের সমাজে দিন দিন অন্যায় বেড়েই যাচ্ছে। এ কারণে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যেই ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, কওমি শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট সংক্রান্ত একটি বিষয় রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে তারা কিরাত শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন। অপরদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় কিরাত বিষয়টি আলাদা সাবজেক্ট হিসেবে নেই। ফলে এ বিষয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, অতি শিগগিরই সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করে যারা কিরাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক—অর্থাৎ ইসলামী শিক্ষকের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা বলতে শুধু ইসলামিক শিক্ষা নয়; সব ধর্মের অনুভূতিকেই প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহসানুল হক বলেন, সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।