প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতা-কর্মীসহ সমাজের সব সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই শিক্ষা ধারণ করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সমাজের প্রতিটি মানুষের সামান্য সহযোগিতাও অনেক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সহায়তা করাই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অন্যতম উপায়।
এর আগে খিলগাঁওয়ের জোড় পুকুর মাঠে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নগর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাই যদি সচেতন হয় এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে, তাহলে নগরীর পরিবেশ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে নগরী পরিষ্কার রাখার কাজ করছেন। তাদের কাজকে সহজ করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন শহর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে।
শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং কল্যাণই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সেই আদর্শ অনুসরণ করে সরকার ও দল দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজের স্বচ্ছল ও সক্ষম মানুষরা যদি মানবিক দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান দ্রুত উন্নত করা সম্ভব হবে। জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।