আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপরই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। বিচার শেষে যদি আদালত দলটিকে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত দেন, তবেই তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, সব পক্ষের উচিত রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তবে এ ঘটনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আনা অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রাথমিক রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের জন্যও পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হতে পারে। নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আগামী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।