সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতের এআই বিভাজনে পরিণত না হয়-এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
আজ ইস্তাম্বুলে ‘এআই গভর্নেন্স ইন প্র্যাকটিস : প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কোরিয়া, তুরস্ক, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব ও ইউএনডিপি।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এআই কেবল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; এটি সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ‘মূল প্রশ্নটি কেবল এটি নয় যে আমরা কত দ্রুত এআই গ্রহণ করব; বরং আমরা কতটা প্রজ্ঞার সঙ্গে, দায়িত্বশীলভাবে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে এটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করব, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’
মন্ত্রী এআই সুশাসনের জন্য তিনটি মৌলিক নীতি-আস্থা ও বিশ্বাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য তৈরি না করে, বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনটি উদ্ভাবন, বিশ্বাস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির এমন একটি প্ল্যাটর্ফম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকবে না বলে আশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি এই উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দিনব্যাপী (৬-৭ অক্টোবর) সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউএনডিপি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছে।