দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় কার্যদিবসেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি করেছে। অনুসন্ধান ও তদন্তসংক্রান্ত একাধিক ফাইল পর্যালোচনা করে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্তও দিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দ্বিতীয় কার্যদিবসের কাজ শেষে দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, কমিশনের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না; প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই বলেও জানান তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে অনেক কাজ করেছি। অনেক ফাইল অনুমোদন করেছি। আমাদের কাজে একদম স্বচ্ছতা থাকবে। আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা কোনো ব্যক্তিকে দেখব না। অনেক বড় বড় ফাইল আজ ছেড়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অনেক ফাইল অনুমোদন হয়েছে। তদন্ত ও অনুসন্ধানভিত্তিক অনেক ফাইল দেখেছি। সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে।’
তবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এসব ফাইল এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি চেয়ারম্যান।
দুদক সূত্র জানায়, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান ও তদন্তসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক ফাইল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে অনুসন্ধান শুরু, অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়েরের অনুমোদন, তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল।
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব ফাইল পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা শুরু করেছে। দ্বিতীয় কার্যদিবসেই এসব ফাইলের একটি অংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চাপের মধ্যে নেই। স্বাধীনভাবে কাজ করব।’
নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া ১৯ আগস্ট দুদকে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় কমিশন শূন্য থাকার পর নতুন কমিশনের প্রথম কার্যদিবস থেকেই অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলাসংক্রান্ত ফাইল পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে।