ইতালির ভেনিসে হামলার ঘটনায় ভেঙে পড়েননি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন; বরং ঘটনার শেষ দেখে তবেই ভেনিস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফেসবুক লাইভে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বাঁধন বলেন, তাঁর কাছে ঘটনার সব প্রমাণ রয়েছে, কয়েকজনকে ইতিমধ্যে শনাক্তও করা হয়েছে এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইতালি ছাড়বেন না।
বাঁধন বলেন, প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন—আমি কেমন আছি, কোথায় আছি, কীভাবে আছি? আমি শুধু আপনাদের সবাইকে বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি। আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আর সেটা করতে ভুলেও গেছি। তাই আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।
ইতালির স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার কথাও জানান বাঁধন। তিনি বলেন, হামলার পর পুলিশ তাঁকে নিরাপদ একটি জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বাঁধন বলেন, আজকে বাংলাদেশ এম্বেসি থেকে অ্যাম্বাসেডর সাহেব আমাকে ফোন করেছেন। তাঁর অফিস থেকে লোক আসছে। তাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।
বাঁধন জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পর যাঁরা তাঁকে ফোন, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তবে নিজের ওপর হামলার চেয়ে ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার ঘটনায় বেশি ক্ষুব্ধ বাঁধন। বিশেষ করে ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটিকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাঁধন বলেন, ‘আমার ভাই এবং তার পরিবার, তার ছোট বাচ্চা ও তার স্ত্রী যেভাবে হ্যারাজড (হয়রানির শিকার) হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।’
বাঁধন আরও বলেন, আমার জন্য আমার ছোট ভাই এবং তার ওয়াইফ এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড (নিগৃহীত) হয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক।’ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ভেনিস ছাড়বেন না বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।
চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে জায়গা পেয়েছে সিনেমাটি। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি। বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং হাত থেকে মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল।