প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা। সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, সমঝোতা ও প্রটোকল সই হতে পারে।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও চীন সফরে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তাঁর ভাষায়, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়; বরং অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন। আগামী ২৫ জুন বেইজিংয়ে লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন, যা সামার দাভোস ফোরাম হিসেবে পরিচিত, তাতে অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলও তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া ও চীন—দুই সফরেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।