ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, এডিপি সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ি বা একে অন্যকে দোষারোপ করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন করতে হলে অতীতের হিসাব টেনে বিভাজন না বাড়িয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু খাদ্যশস্য বরাদ্দ বা অল্প পরিমাণ অর্থ বিতরণ করলেই উন্নয়ন হয় না। মানুষের ভাগ্যের বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সমন্বিত ও কার্যকর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন কার্যক্রমে দ্রুত অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। সে গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মকর্তাদেরও সক্রিয় হতে হবে। কারণ প্রতিটি খাত ও প্রতিটি কাজ এখন শক্তভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনগতভাবে যেখানে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ আছে, সেখানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকেও সমানভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু সেতু, কালভার্ট, খাদ্যশস্য বা নগদ অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। এখন দরকার টেকসই উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির উদ্যোগ।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হবে। এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হলে মানুষের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জিওবি খাতে ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং পিএ খাতে ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে এডিপিভুক্ত ৮টি প্রকল্প এবং ৩টি উন্নয়ন সহায়তা অনুমোদিত রয়েছে। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এসব প্রকল্প ও উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৪৭ দশমিক ০২ শতাংশ।
এ সময় পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রত্যন্ত এলাকায় সংযোগ সড়কসহ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, পার্বত্য এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত অনুপ কুমার চাকমা, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজ লুসাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।